শব্দ দূষণ রচনা শিখুন।
শব্দ দূষণ
ভূমিকা : আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তাই নিয়েই আমাদের মানব পরিবেশ গঠিত। এই পরিবেশের অন্যতম নিয়ামকগুলো হচ্ছে বায়ু, পানি ও মাটি। এগুলো দূষিত হলে মানবসৃষ্ট পরিবেশও দূষিত হয়ে যায়। বর্তমানে এগুলোর সঙ্গে যুক্ত আরেকটি উপকরণের নাম হলো শব্দদূষণ। শব্দদূষণ সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি ভয়াবহ সমস্যা।
শব্দদূষণ কী : মানবসৃষ্ট উচ্চ শব্দ, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তাই শব্দদূষণ। শব্দদূষণের মাত্রা শহরে শব্দদূষণের মাত্রা সর্বাধিক। শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা শহরের আবাসিক এলাকায় ৩৫ থেকে ৪৫ ডেসিবল আর নগরে-বন্দরে ৪৫-৫০ ডেসিবলের বেশি। সুতরাং শব্দদূষণের পরিণাম অবশ্যই ভয়াবহ।
শব্দদূষণের বিভিন্ন উপকরণ/ শব্দদূষণের কারণ : শব্দদূষণের অনেক কারণ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিবহন বা যানবাহনগুলো সবচেয়ে অনিষ্টকারী ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিমান, হেলিকপ্টার, রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি, ট্রাক, বাস ও মোটরসাইকেল সবই মাত্রাতিরিক্ত উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে। যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক ভেঁপু, মাইক্রোফোন, বিভিন্ন শ্রুভিবাদন যন্ত্র, সিডি, ক্যাসেট প্লেয়ার, বেতার, টেলিভিশন, লাউড স্পিকার, টেলিফোন, মোবাইল ফোন, কলিংবেল, কলকারখানার ইঞ্জিনের শব্দ, মাইকিং ও বাজি-পটকার আওয়াজ বা শব্দ রীতিমতো শব্দদূষণ ঘটায়। এ ছাড়া উচ্চ শব্দে কথা বলা, গান করা, মিছিল-মিটিংয়ের আওয়াজ, লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচিতেও শব্দদূষণ ঘটে।
শব্দদূষণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া/ফলাফল : শব্দদূষণ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। এর ফলে মস্তিষ্কের ক্ষতি, বধিরতা, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়াবন্ধ, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ হৃৎস্পন্দন, মাথা ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক ভারসাম্য বিনষ্ট, মেজাজ খিটখিটে হয় ও লেখাপড়ায় অমনোযোগিতা আসে। বাংলাদেশে এই দূষণের কারণে বধিরতা থেকে শুরু করে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না। ৮৫ ডেসিবলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তিন বছরের কম বয়স্ক শিশু কাছাকাছি দূরত্ব থেকে ১০০ ডেসিবল মাত্রার শব্দ শোনে, তাহলে সে তার শ্রবণক্ষমতা হারাতে পারে। শব্দদূষণের একক হলো হার্টজ। মানুষ সাধারণ ১৫ থেকে ২০ কিলোহার্টজ স্পন্দনের শব্দ শোনে। শব্দ স্পন্দন যখন এই সীমা অতিক্রম করে, তখনই শব্দদূষণ ঘটে।
শব্দদূষণ প্রতিকারের উপায় : শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারের জন্য আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রয়াসের প্রয়োজন। যেমন—অপ্রয়োজনে গাড়ির হর্ন না বাজানো, আর বাজালে যাতে উচ্চ মাত্রায় শব্দ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। সিডি, টিভি, রেডিও, মাইক চালানোর সময় শব্দ সহনীয় পর্যায়ে রাখা, জোরে কথা বলা ও চিৎকার-চেঁচামেচি থেকে বিরত থাকা। এ ছাড়া কলিংবেল, টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের আওয়াজের মাত্রা কমিয়ে রাখতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিলে আমরা শব্দদূষণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে পারি।
উপসংহার: প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এবং বিপন্ন পরিবেশদূষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে অন্যান্য দূষণের পাশাপাশি শব্দদূষণও রোধ করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
No comments